স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মঞ্জুর করা ঋণ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়া দেউন্দি টি কোম্পানি বিকল্প উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ১০ দিন পর চার চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কোম্পানির অধীন মৌলভীবাজারের মিরতিঙ্গা এবং হবিগঞ্জের লালচান্দ, দেউন্দি ও নোয়াপাড়া চা বাগানের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শ্রমিককে সাপ্তাহিক মজুরি ও রেশন দেওয়া হয়। বকেয়া আরও দুই সপ্তাহের মজুরি ও রেশন আগামী ৯ ও ১২ নভেম্বর দেওয়ার কথা জানিয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর মজুরি না পেয়ে চার বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে বাগানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন আয় বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে খাদ্যসংকটে পড়েছেন তারা। এ বিষয়ে ১ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদনও করেন শ্রমিকরা।
কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, কৃষি ব্যাংকের ঋণ না পাওয়ায় ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটে ভুগছে। এর সঙ্গে চা কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, যন্ত্রপাতি চুরি ও অন্যান্য সমস্যায় সংকট আরও বেড়েছে।
এদিকে শ্রমিকদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সলের ছেলে সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শাফক্বাত আহমেদ গত ৩ নভেম্বর চার বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ১৭ টন চাল বিতরণ করেন। তবে চাল বিতরণে পরিমাণ কম দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন শ্রমিক। তারা বকেয়া মজুরি, রেশন ও অন্যান্য পাওনা নিয়মিত পরিশোধ এবং বাগানগুলো সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন।