বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের দাফন সম্পন্ন খোয়াই নদীর বাঁধ পরিদর্শনে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ ॥ হবিগঞ্জ যেন কোনো বন্যায় প্লাবিত না হয় তার জন্য প্রকল্প গ্রহন করা হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ নবীগঞ্জে মেরামতের ৩ মাসেই রাস্তার বেহাল দশা নবীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি টাকার সরকারি যানবাহন অযত্নে নষ্ট নবীগঞ্জে মাঠ থেকে মরদেহ উদ্ধার ॥ হত্যার অভিযোগ চুনারুঘাটে চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারের দাবিতে মানববন্ধন সাংবাদিক বদরুল আলমের পিতার ইন্তেকাল ॥ শোক হবিগঞ্জে সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের অভিযান ॥ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার চুনারুঘাট আহম্মদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতির গণসংযোগ

চুনারাঘাটে স্কুলছাত্র তন্ময়ের মৃত্যু নিয়ে নানা আলোচনা

  • আপডেট টাইম শনিবার, ৩০ জুন, ২০১৮
  • ৭৩৭ বা পড়া হয়েছে

চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ শুধু লেখা-পড়াতে নয়, খেলা-ধুলাতেও ব্যাপক আগ্রহ ছিলো তন্ময়ের। এ জন্য সহপাঠিরা খেলার পোকা বলে ডাকতো। যেখানে খেলা সেখানেই তন্ময়ের ছিলো সরব উপস্থিতি। চলতি বিশ্বকাপে তার পছন্দের দল ছিলো আর্জেন্টিনা। সিরিয়াস সমর্থক। ক্লাসে সে ছিলো বিনয়ী এবং সহজ-সরল প্রকৃতির। শিক্ষকরা তন্ময়কে খুব মায়া করতেন, ভালবাসতেন। তন্ময়ের চলে যাওয়াটা তারা কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছেন না। তার শুন্যতা বিরাজ করছে পুরো বিদ্যালয়ে। তন্ময়ের দেহ সিলিং এর ঝুলানো থাকবে সেটা কল্পনাও করেনি সহপাঠিরা।
পুরো নাম রেজাউল মোস্তফা তন্ময় (১৪)। সে চুনারুঘাট ডিসিপি হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিল । তার বাবা মাওলানা আঃ সালাম হাজী আলীম উল্লা মাদ্রাসার শিক্ষক। তারা চুনারুঘাট সদরেই বসবাস করেন। গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় মাইকে ঘোষণা করা হলো তন্ময়কে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সে নিখোঁজ। রাতে বলা হলো, তন্ময় সিলিং-এর সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক মানুষ রাতেই তন্ময়ের বাসায় ভীড় জমান। মূহুর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তন্ময়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশের ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তন্ময়ের বাবা যে বাসায় ভাড়া থাকতেন সে বাসার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে তন্ময়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় তার মুখ মন্ডল পরনের প্যান্ট দিয়ে ঢাকা ছিলো। পা দুটো ছিলো রশি দিয়ে বাঁধা। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলো জখমের চিহ্ন। কোন কোন আঘাত থেকে রক্তও পড়ছিলো। হাত দুটো গলায় জড়ানো ছিলো রশির কাছে। এ ধরণের আলামত দেখে উৎসুক লোকজনের মাঝে নানা রহস্য ও কৌতুহল দেখা দেয়। এরই মাঝে তন্ময়ের মরদেহ বিনা ময়না তদন্তে দাফনের উদ্যোগ নেন বাবা আঃ সালাম। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই তন্ময়ের লাশ কবরস্থ করা হয়। তন্ময়ের মৃত্যুর বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি (তদন্ত) আলী আশরাফ তেমন কিছুই বলেননি তবে কেরাম বোর্ড না পাওয়ার কারনে তন্ময় আত্মহত্যা করতে পারে বলে জানান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পড়শি জানান, খেলা নিয়ে শাসন করতে গিয়ে ছেলেটি হয়তো আত্মহত্যা করেছে। কারন হিসেবে তারা জানান, মা ছেলেটিকে শারীরিক ভাবে প্রায়ই শাসন করতেন। ঘটনার দিনও ছেলেরটির কান্নাকাটি শুনা গেছে। পরে মাইকে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করা হয়। এ বিষয়ে নিহত তন্ময়ের বাবা এবং মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাৎক্ষণিক কোন কথা বলতে চাননি। তবে ঘটনার ৩দিন পর শুক্রবার মুঠোফোনে তন্ময়ের বাবা আঃ সালাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, আত্মহত্যার কোন কারন দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। তারা ছেলেকে খুব ভালবাসতেন তাই ছেলেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরতে না দেখে শহরে মাইকিং করতে হয়। পরে ছেলের লাশ পাশের ঘর থেকে আবিস্কার করেন তারা। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা সাংবাদিকদের জানান, ওই মৃত্যুর ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। রহস্যজনক এ মৃত্যু নিয়ে নানা কথা এখন লোকমুখে শুনা যায়। মরদেহের আলামত দেখে এলাকাবাসি তন্ময়ের মৃত্যু রহস্যজনক বলেই মনে করছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2013-2021 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com