স্টাফ রিপোর্টার ॥ বড়ছড়া খাল ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। ক্ষুদ্রাকার পানি উন্নয়ন প্রকল্প (জাইকা-২) নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা এলাকায় বড়ছড়া খাল প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জঙ্কো, বিশেষ অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেন, এলজিইডি সিলেট অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অরুন কুমার চৌধুরী, এলজিঙ্কডিং সিলেট, প্রকল্প পরিচালক মোঃ সানিউল হক, এলজিইডি সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মওলা। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ তানজীর উল্লাহ সিদ্দিকী। জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পের ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এসএসডব্লিউআরডিপি-জাইকা ও এলজিইডি।
প্রকল্পের আওতায় মৎস্য কার্যক্রম, রেকর্ড সংরক্ষণ, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, আইডি-এপি, এমইপি, জেন্ডার সচেতনতা, হিসাবরক্ষণ ও নিরীক্ষা, টেকসই কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, জেন্ডার ক্ষমতায়ন, নারীর অধিকার, ফ্ল্যাগশিপ উপ-প্রকল্পের কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিষয়ক কর্মশালা, দেশি মুরগি ও হাঁস পালন এবং পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক লোকসংগীত ও নাটক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৮১ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১টি ওয়াটার রেগুলেটিং স্ট্রাকচার, ১টি বক্স কালভার্ট, সোয়া ৭ কিলোমিটার ১টি খাল পুনঃখনন, ২টি মাছের আশ্রয়স্থল, ৪টি রেফারেন্স লাইনড সেকশন ১টি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বড়ছড়া খালের পুনঃখনন, কুন্দারী বিলের পুনঃখনন, হরুয়া বিলের পুনঃখনন, মার্কেট অ্যাক্সেস সড়কের পুনঃসেকশনিং করা হয়েছে।
প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কৃষি ব্যবসা কেন্দ্র, প্রবেশদ্বার ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, এইচবিবি সড়ক নির্মাণ, শস্য শুকানোর ফ্লোর নির্মাণ, ১৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একতলা শস্য সংরক্ষণ ভবন নির্মাণ, দ্বিতল অফিস-কাম-গ্যারেজ নির্মাণ এবং কম্পিউটার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ সহ বক্স কালভার্ট নির্মাণ, ৫টি সেচ খাল, আউটলেট ও সড়ক নির্মান করা হয়েছে।
এ উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে পানি ব্যবস্থাপনা ও পানি সংরক্ষণ। ৬০৯ হেক্টর প্রকল্পের আওতাভুক্ত পানিউমদা, বরকান্দি ও কুর্শা গ্রামের ৬১৮টি পরিবারের মাঝে ৪২৮টি পরিবার উপকৃত হবে।
প্রকল্পের একটি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি রয়েছে। ২০১২ সনে গঠিত সমিতির কমিটির সভাপতি হচ্ছেন- ডিএসবি মোহাইমিন চৌধুরী এবং সাধারন সম্পাদক মো. মজলু মিয়া। সমিতির মোট সদস্য সংখ্যা ৫১১ জন। এছাড়া ৮টি উপ-কমিটি রয়েছে।