মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ কোন ধরনের সরকারী ইজারা ছাড়াই মাধবপুরের সোনাই নদী থেকে মূল্যবান সিলিকা বালু তুলে বিক্রি করা হচ্ছে। অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিত বালু উত্তোনল করায় কৃষি সেচের জন্য ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাবার ড্যাম দুটি যেকোন সময়ে ধ্বসে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোনল করে বিক্রি করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা, রাবার ড্যাম পরিচালনা কমিটির কতিপয় সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের অসৎ কর্মচারীদের সমন্বনয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট সোনাই নদীর মূল্যবান সিলিকা বালু লুটের মহোৎসব চালাচ্ছে। সরকারী কোষাগারের রাজস্ব দেওয়ার পরিবর্তে মিলেমিশে নিজেদের পকেট ভারী করছে বালু লুটকারী সিন্ডিকেটি। এতে করে সোনাই নদীর বালু মহাল থেকে সরকার নূন্যতম ৫ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সোনাই নদীর বহরা ও অলিপুরে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কোটি নির্মিত রাবার ড্যাম দুটি হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সোনাই নদীর দু’পাশে বোরহানপুর, ভবানীপুর, দুর্লভপুর, আফজলপুর ও বহরা; চৌমুহনী কোয়ারির কাশিমপুর, অলিপুর, আলাবক্সপুর, মনোহরপুর, মঙ্গলপুর, গাজীপুর, আশ্রবপুরের লক্ষ লক্ষ ঘুনফুট বালু অবৈধভাবে তুলে স্তুপ করে রাখা। এসব সিলিকা বালু ট্রাক ট্রাক্টর ভর্তি করে হরদম বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অবৈধ বালুর বিরুদ্ধে অভিযানে রওয়ানা হলেই খবর পোঁছে যায় বালু সিন্ডিকেটে কাছে। খরব পেয়ে বড় বড় স্তুপ ও নষ্ট মেশিন গুলো রেখে ভালো ড্রেজার মেশিন ও বালু পরিবহনের গাড়ী নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নেয় বালু চোরেরা।
গত ১লা সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান সোনাই নদী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছিল। এসময় বেশ কয়েকটি মেশিন ও পাইপ ধ্বংস করা হয়। অভিযানের পর রাত থেকেই আবার নদীর দু’পারে রাখা লক্ষ লক্ষ ঘুনফুট বালু বিক্রি শুরু করে দিয়েছে।
সচেতন মহলের দাবী, দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির প্রয়োগ না হওয়ায় চোর-পুলিশ খেলায় সরকারের নির্মিত রাবার ড্যাম ও খানিজ সম্পদ সিলিকা বালু রক্ষা করা সম্ভব হবেনা।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান জানান, সুযোগ পেলেই চোরাই বালু উত্তোনলকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করি। এসিল্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদসহ লোকবল কম থাকায় পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ জানান, সিলিকা বালুর বিষয়ে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমরা খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ে জানিয়েছি। ওখান থেকে সিদ্ধান্ত নিবে।
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক কাজী জিয়াউল বাসেত জানান, আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট যাবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগীতায় অবৈধ সিলিকা বালু বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।