মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বানিয়াচংয়ে খালে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত ১ ॥ আহত ১০ হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য ছাত্র ফ্রন্ট নেতা লিটনের মরণোত্তর দেহ দান নবীগঞ্জের নোয়াপাড়ায় ক্রয়কৃত জমিতে লাগানো গাছ কাটতে বাধা ॥ থানায় অভিযোগ নবীগঞ্জে আলোচিত বোন হত্যা মামলার আসামী শাহীন সিলেট থেকে গ্রেফতার হবিগঞ্জ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক স্বল্পতা ॥ খালি পদ ৯৫৭টি হবিগঞ্জের বিরতিহীন বাস ভাংচুর ও শ্রমিকদের মারধোরের অভিযোগ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সিলেট ওসমানি মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন দিনমজুর লিটন মিয়া হারিয়ে যেতে বসেছে মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি পানির ফিল্টার চুনারুঘাটে যৌতুক দাবির অভিযোগে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা বাহুবলে মাদক সেবন করে হট্টগোল এক যুবকের ৭ মাসের কারাদণ্ড

হারিয়ে যেতে বসেছে মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী হাতে তৈরি পানির ফিল্টার

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

মাধবপুর প্রতিনিধি ॥ এক সময় মাধবপুরের হাতে তৈরি পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টারের ছিল দেশজুড়ে পরিচিতি। সিমেন্ট, বালি, কংক্রিট, পাথর, লাইমস্টোন পাউডার ও মোজাইকের বিশেষ মিশ্রণে তৈরি তিন স্তরের এসব ফিল্টার শুধু পানি বিশুদ্ধই করত না, প্রাকৃতিকভাবেই দীর্ঘসময় পানি ঠাণ্ডাও রাখত। মাধবপুরের কারিগরদের নিপুণ হাতে তৈরি এসব ফিল্টার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হতো বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে কালের বিবর্তনে প্লাস্টিক, ফাইবার, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আধুনিক ফিল্টার বাজার দখল করে নেওয়ায় মাধবপুরের সেই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময় যেখানে মাধবপুর পৌরসভার কাছারি এলাকা ও আশপাশে ১৫ থেকে ১৭টি ফিল্টার কারখানায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন, সেখানে এখন হাতে গোনা কয়েকটি কারখানায় সীমিত পরিসরে টিকে আছে এ শিল্প। কাজের অভাবে অনেক দক্ষ কারিগরও পেশা বদলে ফেলেছেন। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে মাধবপুরের হীরালাল রায় হাতে তৈরি বিশেষ ধরনের পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার উদ্ভাবন করেন। পরে ধীরে ধীরে স্থানীয় কারিগরদের দক্ষ হাতে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি এসব ফিল্টারে তিনটি স্তর থাকত। একটি স্তরে পাথর ও অন্যান্য উপকরণ, অন্য স্তরে বালি ও কংক্রিট এবং অপর স্তরে মোজাইকসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হতো। এসব স্তরের মধ্য দিয়ে পানি ধীরে ধীরে পরিশোধিত হয়ে নিচের অংশে জমা হতো। একই সঙ্গে মাটির ও নির্মাণসামগ্রীর স্তরগুলোর কারণে পানি অপেক্ষাকৃত ঠাণ্ডাও থাকত। একসময় মাধবপুরের এসব ফিল্টারের ব্যাপক চাহিদা ছিল। সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা মাধবপুর থেকে ফিল্টার নিয়ে যেতেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি এ পণ্যটি ‘মাধবপুর ফিল্টার’ নামেও পরিচিতি পেয়েছিল। সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের ব্যবহার ও পছন্দের ধরনও। বাজারে সহজলভ্য হয়ে উঠেছে প্লাস্টিক, ফাইবার, স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি আধুনিক ফিল্টার। এসব ফিল্টার তুলনামূলক হালকা, সহজে বহনযোগ্য এবং নানা নকশায় পাওয়া যায়। ফলে ভারী ও হাতে তৈরি মাধবপুরের ঐতিহ্যবাহী ফিল্টারের চাহিদা কমতে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি। সিমেন্ট, বালি, পাথর, মোজাইকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় পুরোনো পদ্ধতির এ শিল্প টিকিয়ে রাখা কারিগরদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কারিগর বাবু সুরঞ্জন বলেন, ‘আমরা বাবার আমল থেকে ফিল্টার বানাচ্ছি। আগে প্রতিদিন অর্ডার সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। এখন সপ্তাহেও একটা অর্ডার পাই না। অনেকে কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন।’ মাধবপুর বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী সাদেক মিয়া বলেন,একসময় এখানকার ফিল্টার সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরসহ দেশের নানা জেলায় যেত। এখন শুধু স্থানীয়ভাবে অল্প কিছু বিক্রি হয়। সেই রমরমা দিন আর নেই। কারিগরদের মতে, সরকারি উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক নকশা ও প্রযুক্তির সংযোজন এবং বাজারজাতকরণে সহায়তা দেওয়া গেলে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে আবারও ঘুরে দাঁড় করানো সম্ভব। এতে একটি পুরোনো স্থানীয় শিল্প যেমন টিকে থাকবে, তেমনি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘হাতে তৈরি ফিল্টার একসময় মাধবপুরের একটি ব্র্যান্ড ছিল। সময়ের পরিবর্তনে এই শিল্প পিছিয়ে পড়লেও এর সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে আছে। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে কীভাবে সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনার সুযোগ রয়েছে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ
© All rights reserved © 2013-2026 HabiganjExpress.Com
Design and Development BY ThemesBazar.Com