চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ চুনারুঘাটে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন মোছাঃ হালিমা আক্তার রিমা নামে এক নারী। অভিযুক্ত স্বামী সুজন আহমদ সিলেটের আরআরএফ লালবাজারে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার ১০নং মিরাশী ইউনিয়নের চামলতলী গ্রামের আব্দুল আলী মীরের মেয়ে হালিমা আক্তার রিমার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সুজন আহমদের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাদীর অভিযোগ, ওই সময় আসামিকে বিশ্বাস করে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক, আইডি কার্ড এবং আসামির ব্যবহৃত ০১৬৬০-০০১০১৩ নম্বরের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। পরে হালিমা দেশে ফেরার পর ২০২৬ সালের ১৮ জুলাই উভয় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সিলেটের একটি কাজী অফিসে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় এবং কাবিননামা নিবন্ধন করা হয়। বিয়ের পর কিছু দিনের মধ্যে বাসা ভাড়া করে তাকে সিলেটে নিয়ে যাবেন বলে স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এজাহারে আরও বলা হয়, বাড়িতে আসার পরের দিনই সুজন আহমদ মোবাইল ফোনে হালিমার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার হুমকি দেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে সুজন আহমদ হালিমার পিত্রালয়ে গিয়ে পুনরায় ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার সঙ্গে সংসার করবেন না বলে হুমকি দেন। এ সময় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনেও তিনি যৌতুকের টাকা না দিলে তাকে নিয়ে সংসার করবেন না এবং অন্যত্র বিয়ে করে যৌতুক আদায় করবেন বলে জানান এমন অভিযোগ করেছেন বাদী। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের আশায় হালিমা আক্তার রিমা গত ২ আগস্ট সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেটের পুলিশ সুপার এবং আরআরএফ লালবাজারে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাখি রানী দাশের মাধ্যমে উভয় পক্ষকে তদন্তের জন্য নোটিশ দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর দাবি, তদন্তের সময় আপসের মাধ্যমে তাকে স্বামীর কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত সুজন আহমদ এতে সম্মত হননি। তদন্ত কর্মকর্তার সামনে তিনি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাবও দিতে পারেননি বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হালিমা আক্তার রিমা আদালতের শরণাপন্ন হন। এ ঘটনায় তিনি গতকাল সোমবার আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করেছেন।